লংমার্চের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বিএনপিই সবার আগে এ কর্মসূচি পালন করত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। বিদ্যুৎ খাতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত করা হয়েছে এবং এ খাতে ব্যাপক অর্থ লোপাট হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাত দিনের সরকারি সফরে বরগুনায় পৌঁছে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, একটি মায়ের গর্ভে সন্তান জন্ম নিতে ১০ মাস সময় লাগে। অথচ পাঁচ মাসের মধ্যেই দুটি লংমার্চ দেখা গেছে। যারা এসব কর্মসূচি পালন করেছেন, কী উদ্দেশ্যে করেছেন, তা তিনি জানেন না বলেও মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকট তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যুৎ এমন কোনো পণ্য নয়, যা ইচ্ছা করলেই মজুত করে রাখা বা পরিমাণ অনুযায়ী বিক্রি করা যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহ না করে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া সংকটের গভীরতা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে।
বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আজিজ খানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ খাতের বিপুল অর্থ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেগুলো থেকে যথাযথভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল ইসলাম মনির ভাষ্য, ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। তাঁর অভিযোগ, জেনেশুনে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছিল, যাতে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়। বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে এ ধরনের অনিয়মকে দায়ী করেন তিনি।
এ সময় পায়রা বন্দরের চ্যানেল খনন প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চ্যানেল খনন করা হলেও খননের আগে ও পরে পানির গভীরতা ৫ মিটারই ছিল বলে তাঁর দাবি। এ প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে দেশকে গুরুতর সংকটের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিদ্যুৎ খাত থেকে শুরু করে বড় অবকাঠামো প্রকল্প পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সরেজমিনে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বিদ্যুৎ খাতের সংকট, উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

