বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, হত্যা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে দেশটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অবস্থানের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি জানান, সংগঠনটি গত তিন মাসে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সহিংসতা, হত্যা এবং ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা এবং সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি উসকে দেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ এসব বিষয় সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।”
সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ ঐক্য পরিষদের
এর আগে বুধবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথের পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজনের সময় সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে ‘দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে।
সংগঠনটির দাবি, সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের আংশিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিবৃতিতে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নিপীড়নের অভিযোগ করা হয়।
ঐক্য পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি এবং ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে চারটি। এ ছাড়া মন্দিরে হামলা, লুটপাট, জায়গা দখল ও প্রতিমা ভাঙচুরের ৩৬টি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর হামলার সাতটি ঘটনা, বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ১১টি ঘটনা এবং হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ও মারধরের ২৬টি ঘটনার তথ্য তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া জমি ও সম্পত্তি দখলের ১৪টি, অপহরণ, হত্যার হুমকি ও হয়রানির তিনটি এবং চাঁদাবাজির চারটি ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। অন্যান্য ধরনের আরও ১৪টি ঘটনার উল্লেখও রয়েছে বিবৃতিতে।
তবে এসব পরিসংখ্যান ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির পাশাপাশি বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এক সাংবাদিক উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রসচিব যোগ দেন। বাংলাদেশ থেকে যথাযথ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব না করার ঘটনা এটি দ্বিতীয়বার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও প্রশ্নে উঠে আসে।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আয়োজনে হওয়া এই বৈঠকে সংস্থাটির সব সদস্যদেশ অংশ নেয় এবং সম্মেলন শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ভারতের
জয়সওয়াল জানান, সন্ত্রাসবাদ, মাদক এবং অর্থপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিমসটেকের সদস্যদেশগুলো অঙ্গীকার করেছে। বৈঠকে কয়েকটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্বোধনী সংলাপের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের অন্যান্য সদস্যদেশের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বক্তব্য এবং বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগে সমাধানের প্রত্যাশা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

