প্রতিপক্ষের চুল টেনে ধরা এবং লাল কার্ড দেখার পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় বড় শাস্তি পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্প্যানিশ লা লিগার শৃঙ্খলা কমিটি তাঁকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত এল ক্লাসিকোয় খেলা হচ্ছে না তাঁর।
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে শনিবার রাতের ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরেই এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরার জন্য দুই ম্যাচ এবং লাল কার্ডের পর আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য আরও দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে ভিনিসিয়ুসকে।
এই শাস্তির ফলে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচগুলোতে মাঠে নামতে পারবেন না রিয়ালের এই ফরোয়ার্ড।
যেভাবে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের ৭০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথানিয়েল সালিবার চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস। ওই সময় একটি পাল্টা আক্রমণ চলছিল। প্রথমে ঘটনাটি রেফারির নজরে না এলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
একাধিকবার ভিডিও রিপ্লে দেখার পর রেফারি দিয়াজ দে মেরা এসকুদেরোস ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। একই সঙ্গে ওই আক্রমণ থেকে করা গোলটিও বাতিল হয়ে যায়।
শৃঙ্খলা কমিটির বিবেচনায়, চুল টানার সময় বল নিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল না। ফলে ঘটনাটিকে সাধারণ খেলার মধ্যে সংঘটিত ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে এ ঘটনার জন্য দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এরপর লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভিনিসিয়ুসের আচরণও শাস্তির মাত্রা বাড়িয়েছে। রেফারির প্রতিবেদনে তাঁর আচরণকে ‘আক্রমণাত্মক মনোভাব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সতীর্থদেরও তাঁকে আটকাতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে অতিরিক্ত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যোগ হয়।
রিয়ালের আপত্তি, শাস্তিকে অতিরিক্ত মনে করছে ক্লাব
শাস্তির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির ধারণা, ঘটনার তুলনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেশি হয়েছে। বিশেষ করে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার জন্য অতিরিক্ত দুই ম্যাচের শাস্তি নিয়ে আপত্তি রয়েছে তাদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি ঘোষণার আগে থেকেই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল রিয়াল। তবে ক্লাবটি আশা করেছিল, শাস্তির মেয়াদ তিন ম্যাচের মধ্যে সীমিত থাকবে। দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হলে সেটিকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করত তারা।
রেফারির প্রতিবেদনে ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে গালিগালাজের নির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকায় আপিলের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাওয়ার আশাও করেছিল ক্লাবটি। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ ও রেফারির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি কোনো ছাড় দেয়নি।
ক্লাবের মতে, এই সিদ্ধান্ত রেফারিং ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থার কঠোর অবস্থানকে সামনে এনেছে। তবে আপিল করে শাস্তি কমানোর সুযোগ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে তাদের প্রত্যাশা সীমিত।
এল ক্লাসিকোয় থাকছেন না ভিনিসিয়ুস
চার ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোয় ভিনিসিয়ুসকে না পাওয়া দলটির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি। আন্তর্জাতিক বিরতির পর লা লিগার ১৩তম রাউন্ডে সেল্তার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাঁর ফেরার কথা রয়েছে। ম্যাচটি ২০ থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
অর্থাৎ, এক মাসেরও বেশি সময় লিগের ম্যাচে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে এই সময়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকবে তাঁর, কারণ নিষেধাজ্ঞাটি লা লিগার ম্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
রিয়ালের আক্রমণভাগে বাড়তি চাপ
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও গোলের সুযোগ তৈরির দক্ষতা বড় ম্যাচে দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচগুলোতে তাঁকে না পাওয়া কোচের কৌশল ও আক্রমণভাগের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর মতো ম্যাচে তাঁর অনুপস্থিতি রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে আক্রমণভাগ সাজাতে হবে দলটিকে।
মাঠের উত্তেজনায় নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসকে শুধু লাল কার্ডেই থামায়নি, বরং গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচ থেকেও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা, মৌসুমের অন্যতম আলোচিত লড়াই এল ক্লাসিকোয় দর্শক হয়েই থাকতে হবে তাঁকে।

