অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ ও সম্প্রসারণে অর্থায়নকারী ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করেছে যুক্তরাজ্য। লন্ডনের নতুন এই পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে যুক্তরাজ্যের সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞাব্যবস্থা কার্যকর হয়। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বসতি নির্মাণে অর্থায়নকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংস হামলায় জড়িত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। নতুন ব্যবস্থায় বসতি নির্মাণ ও সম্প্রসারণে অর্থ জোগান দেওয়া ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বরং প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার তালিকা সম্প্রসারণের ক্ষমতা পেয়েছে যুক্তরাজ্য।
ই১ বসতি প্রকল্প ঘিরে উদ্বেগ
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলো। বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেম ও মা’আলে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী ই১ এলাকায় পরিকল্পিত নির্মাণ প্রকল্পটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওই এলাকায় নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডগত যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, এতে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ই১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা, প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের বিভিন্ন ফিলিস্তিনি এলাকার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করবে। ফলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা
বসতি নির্মাণে অর্থায়নকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরি হওয়া এবং এর জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ—দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি এর আর্থিক সহযোগীদের ওপরও চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
সূত্র: আলজাজিরা

