মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টা, সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত ‘মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে ঠাট্টা করতে গিয়ে তিনি মুসলিমদের মধ্যে জনপ্রিয় এই নামটি উল্লেখ করেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর রয়টার্সের।

- Advertisement -

ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম মনে না থাকলে ‘মুহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলবে। তাঁর দাবি, এতে সঠিক ব্যক্তিকে ডাকার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে এভাবে ডাকলেও কখনো ভুল হয়নি।

ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসারে বিশ্বের বহু মুসলিম পরিবার তাঁদের ছেলেদের নাম মুহাম্মদ রাখেন। মুসলিম সমাজে নামটির ব্যাপক প্রচলন থাকলেও ট্রাম্পের মন্তব্যটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক।

সমাবেশে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিতে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী নন। এরপর তিনি ‘মুহাম্মদ’ নামের কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না, এমন প্রশ্ন করার ভঙ্গিতে বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু।

২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ মন্তব্য সামনে এল।

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে তাঁর মন্তব্য আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, মুসলিম রাজনীতিক এবং ডেমোক্র্যাট নেতাদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর বর্তমানে দেশটির কংগ্রেস সদস্য।

সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সাত মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) প্রকাশিত চলতি বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আচরণ, অভিবাসননীতি এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ