শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
প্যারিসের কেন্দ্রস্থল প্লেস দে লা রিপাবলিক এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বিভিন্ন দোকান ও ব্যাংকে হামলা চালায়, লুটপাট করে এবং কয়েকটি স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ একাধিক দফায় কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়ক ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই সময়ে দক্ষিণ ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ শহর মার্সেইতেও বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। সেখানে উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে সিটি হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় ভবনের গায়ে সরকারের নীতির বিরোধিতা করে বিভিন্ন চিহ্ন আঁকার ঘটনাও ঘটে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বৃহত্তর গণবিক্ষোভ
শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়। গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকস্বল্পতা নিয়ে ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পেনশনার, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকেরাও এই আন্দোলনে যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ বিক্ষোভকে আরও বিস্তৃত করেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবির আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে চলমান বিক্ষোভকে ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন। ওই আন্দোলনেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ফরাসি নাগরিকদের ব্যাপক প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল।
শান্ত থাকার আহ্বান মাক্রোঁর
বিক্ষোভের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংঘর্ষ ও নাশকতার পেছনে তথাকথিত ‘অতি-বামপন্থী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। বিক্ষোভ চলাকালে দেশটির বিভিন্ন স্থানে কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। তবে শিক্ষা খাতের সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারের নীতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অসন্তোষ কত দ্রুত প্রশমিত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ সরকারের সামনে নতুন চাপ তৈরি করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

