ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংস পরিস্থিতির জন্য দেশটির অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীমান্ত বন্ধ এবং অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভিন্ন সংস্কৃতি ও মানসিকতার মানুষের অভিবাসন ফ্রান্সের স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আগে সীমান্ত বন্ধ করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান তিনি।
এর আগে শনিবার ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে একটি ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও চাপে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ওপরও চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভ্যান্সের বক্তব্যেও অভিবাসন নীতির সমালোচনা
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের আগের দিন একই ধরনের বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর উদারপন্থি রাজনীতির সমালোচনা করেন।
ভ্যান্সের অভিযোগ, বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির কথা বলে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু তাদের সমাজে একীভূত হওয়া এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স অসাধারণ মানুষের একটি সুন্দর দেশ। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই দেশটিতে চলমান পরিস্থিতির অবসান ঘটুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ফ্রান্সের পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক
ভ্যান্সের বক্তব্যে ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে।
ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মন্তব্যে ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের প্রকৃত কারণ, সহিংসতার পটভূমি এবং অভিবাসন নীতির সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।
সূত্র: এএফপি

