জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে ২২ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ বহাল থাকল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ মোট ২২ জন। আসামিপক্ষের করা পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ায় গত ৩০ জুন দেওয়া অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরুর আদেশ বহাল থাকল।
মামলার কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তাঁকে সহযোগিতা করছেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিনসহ অন্যরা।
কারাগারে পাঁচ আসামি
মামলাটিতে বর্তমানে পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু।
অন্য ১৭ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে।
যেভাবে এগিয়েছে মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর দুই দিন পর, ৭ এপ্রিল অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন আসামিপক্ষ। সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলায় মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রমে আগের আদেশ বহাল থাকল। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

