বাংলাদেশে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে জন্য বিএনপি ভারত সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিবেশি দেশটির একাধিক গণমাধ্যম।
শুক্রবার হিন্দি দৈনিক জাগরণ ও দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত সফররত বিএনপি নেতারা দিল্লিতে ভারত সরকারের একাধিক মন্ত্রী,কর্মকর্তা এবং মোদি সরকারের একাধিক থিঙ্ক ট্যাংকদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, বৃহৎ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে এক দলীয় নির্বাচনকে সমর্থন না দিয়ে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন করুক- এটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
গত ৭ জুন বিএনপির প্রতিনিধি দল দিল্লি সফরে গেছেন। এ দলে রয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ন কবির। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দীর্ঘ দিন ধরে দিল্লি’র যে পক্ষপাতিত্ব রয়েছে তা ‘দূর’ করতেই এই সফরের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করে বিএনপি নেতারা।
দ্য হিন্দু লিখেছে, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে এমন একটি ‘ভুল ধারণা’ রয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সব কাজ ভারত সমর্থন করে। কিন্তু ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকলে যে-ই জিতুক না কে তা ভারতের জন্যই বিজয়।
জাগরণের খবরে বলা হয়েছে, বিএনপি নেতারা দিল্লির কাছে বলেছেন, শেখ হাসিনা সরকার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা দায়ের করেছে এব এ মামলাগুলোতে ১৮ লাখ নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের অনেককে গ্রেফতার অথবা নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা বলেছেন, ৭২ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে ১৯৯১ সালের একটি মামলায় তহবিল তসরুপের দায়ে ৫ বছর সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। এই মামলার রায় বিএনপি’র অনেক শীর্ষ নেতার আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র ও নির্বাচনের স্থান’ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি ‘ধর্মীয় চরমপন্থার উত্থান’ ঘটতে পারে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তমূলক গণতন্ত্রের অভাবে অনেক গ্রুপ আন্ডারগ্রাউন্ড বেছে নিতে পারে। ভারতকে এর জন্য একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং তাদেরকে নির্বাচনী ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ কতে হবে।