মাহমুদউল্লাহর ম্যাজিকেল সেঞ্চুরির পরও হার বাংলাদেশের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ ম্যাজিক্যাল সেঞ্চুরির পরও হেরেছে বাংলাদেশ। একটা সময় মনে হচ্ছিল, হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় হারের তিক্ত স্বাদ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমনটাই হতো, তবে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মাহমুদউল্লাহ। দলকে জেতাতে না পারলেও জিতিয়ে এনেছেন নিজেকে। যত প্রশ্ন ছিল তাকে নিয়ে, উত্তরটা দিলেন ব্যাট হাতে; ওয়াংখেড়েতে। বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় শতকটা পেয়ে গেলেন এদিন।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ওয়াংখেড়েতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা।

মাহমুদউল্লাহ পারলেও পারেনি এদিন বাংলাদেশ দল। দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ৩৮৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য পারেনি পাড়ি দিতে। ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারানো দলটা মাহমুদউল্লাহর শতকে ওপর ভর দিয়ে ৪৬.৪ ওভারে ২৩৩ রান পর্যন্ত পৌঁছায় বাংলাদেশ। হেরে যায় ১৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। টানা চার ম্যাচে হার, অনেকটা অসম্ভব এখন সেমিফাইনাল স্বপ্ন।

৩৮৩ রান তাড়া করে জয়টা আকাশকুসুম কল্পনা হলেও সমর্থকরা খানিকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করতেই পারে দলের কাছে৷ করেছিলও তাই। তবে সেই প্রত্যাশার পাহাড়ের চাপ সামলে উঠতে পারেননি সাকিবরা। ভেঙে পড়লেন একে একে। ১৫ ওভারে মাত্র ৫৮ রানে বাংলাদেশ হারাল ৫ উইকেট।

শুরুটা সপ্তম ওভারে। পরপর দুই বলে তানজিদ তামিম ও নাজমুল শান্তকে ফেরান মার্কো জানসেন। শান্ত আরো একবার ব্যর্থ এদিন, ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। এই বিশ্বকাপে যা তার দ্বিতীয় গোল্ডেন ডাক। আর প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ৫৯ রানের ইনিংস বাদ দিলে, পরের ৪ ম্যাচে করেছেন মোট ১৫ রান।

তানজিদ তামিম ফেরেন ১৭ বলে ১২ রান করে। জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা থেকে বের হবার আগেই ফেরেন সাকিব আল হাসান। ভুলে যাবার মতো একটা আসর পাড় করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৪ বলে মোটে ১ রান করে উইলিয়ামসের শিকার হন। পাওয়ার প্লেতে আসে ৩ উইকেটে ৩৭ রান।

১৫ ওভারের শেষ বলে ফেরেন লিটন দাসও৷ রাবাদার এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়ার আগে ৪৪ বলে ২২ রান করেন তিনি৷ এর আগেই ফেরেন মুশফিকুর রহিমও, ১৭ বলে ৮ রান আসে তার ব্যাটে। মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ মিলে যোগ করেন ৪৪ বলে ২৩ রান। মিরাজ আউট হন ১১ করে, ২২ তম ওভারে। ৮৮ রানে ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।

এরপর মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। নাসুম আহমেদের সাথে মিলে যোগ করেন ৩৯ বলে ৪১ রান। ১৯ বলে ১৯ করে আউট হন নাসুম। এরপর হাসান মাহমুদকে নিয়ে মাহমুদউল্লাহ পাড় করেন দেড়শো রানের গণ্ডি। নিজেও পূরণ করেন ফিফটি। হাসান আউট হন ২৫ বলে ১৫ রান করে।

তবে থামেননি মাহমুদউল্লাহ। যত সমালোচনা, যত প্রশ্ন ছিল তাকে নিয়ে; জবাব দিলেন এদিন হাতেই। সাথী পাননি কাউকে, লড়েছেন লোয়ার অর্ডারকে নিয়েই। ৬০ বলে ৬৮ রানের এক জুটি গড়েন মোস্তাফিজকে নিয়ে। যেখানে মাহমুদউল্লাহর ছিল ৩৭ বলে ৫১ রান!

শেষ পর্যন্ত ১০৪ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক। বিশ্বকাপে তৃতীয়। বিশ্বকাপে তারচেয়ে বেশি শতক নেই বাংলাদেশের আর কারো। অবশেষে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন ৪৫.৪ ওভারে। তার ব্যাটে তখন ১১ বলে ১১১ রান। পরের ওভারে মোস্তাফিজ ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

মঙ্গলবার অবশ্য ইনিংসের শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁপিয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লেতে তুলে নেয় জোড়া উইকেট। প্রথম আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন শরিফুল ইসলাম। ভাঙেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটি। স্ট্যাম্প ভেঙে রেজা হেন্ড্রিকসকে দেখিয়েছেন সাজঘরের পথ।

৬.১ ওভারে ৩৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। রেজা আউট হন ১৯ বলে ১২ রান করে। অবশ্য ফিরতেন আরো আগেই। দ্বিতীয় ওভারেই হয়তো বাংলাদেশ পেয়ে যেত বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের স্বাদ। যদি না তানজিদ তামিম তার ক্যাচ ছাড়তেন। ১.৫ ওভারে মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ ছাড়েন তামিম।

তবে উইকেটের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি মিরাজকে। অষ্টম ওভারেই উইকেটের দেখা পান তিনি। বাংলাদেশও পায় স্বস্তি। ফেরান ভেন ডার ডুসেনকে। ৭ বলে ১ রানে করে সাজঘরের পথ ধরেন এই প্রোটিয়া।

সেখানে প্রোটিয়াদের চাপে ফেলার আভাস দিয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি টাইগার বোলাররা। কুইন্টন ডি কক ও মার্করামের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শতাধিক রানের জুটি গড়ে উঠে দু’জনের মাঝে। ১৩১ রান যোগ হয় ১৩৯ রান।

মার্করামকে ফিরিয়ে এই যুগলবন্দী ভাঙলেন সাকিব। ৩১তম ওভারে বোলিংয়ে এসে মার্করামকে ফেরান লিটনের ক্যাচ বানিয়ে। আউট হবার আগে ৬৯ বলে ৬০ রান করে এই প্রোটিয়া ব্যাটার। ১৬৭ রানে এসে পতন হয় তৃতীয় উইকেটের।

মার্করাম ফিরলেও শতক তুলে নেন ডি কক। ভারত বিশ্বকাপে যা তার তৃতীয় শতক। এর আগে কোনো দক্ষিণ আফ্রিকান এক আসরে তিন সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি। ১০১ বলে শতক ছোঁয়ার পর ডি কক ব্যাট করতে শুরু করেন আরো হাতখুলে। মাত্র ১২৯ বলে পাড়ি দেন দেড়শো রানের গণ্ডি।

সর্বশেষ