ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এ কার্ড বিতরণে কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোথাও অনিয়ম হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা হবে। এ কারণে কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে দৌড়াদৌড়ি কিংবা কোনো ধরনের তদবির করতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। একইভাবে কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। টাঙ্গাইল থেকেই প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। গত সাত মাসে সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকেই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এমনকি কেউ কেউ বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথাও বলেছেন। এ ধরনের বক্তব্য ও আশ্বাসের বিষয়ে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নেও তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। পূজাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্ক নজরদারি রাখা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

