প্রবাসীদের ঘামে সচল দেশের অর্থনীতি, তাদের কল্যাণে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বেশি: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে তাদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান বিবেচনায় তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব অনেক।

- Advertisement -

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ শুরু করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। ফলে তাদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশে কর্মসংস্থানের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কাজের সুযোগের অভাবে অনেক তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে প্রাণও হারাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নিরাপদ অভিবাসন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীল ও আমদানিনির্ভর করে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় দেশ থেকে সম্পদ পাচার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করতে হচ্ছে।

বিএনপির অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি এর আগে প্রতিবার ক্ষমতায় এসে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সফল হতে হবে। সরকার লড়াই করছে এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বিজয় অর্জন করতে হবে।

প্রবাসীদের কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রপতি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই আন্দোলনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এ ছাড়া ‘অভিবাসন দশক’ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সর্বশেষ