চট্টগ্রামে সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা লুট, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

মোঃ মোক্তার হোসেন বাবু:চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে অস্ত্রের মুখে এক সাংবাদিককে জিম্মি করে মারধর, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অন্যজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর। তবে এ ঘটনায় হাতিয়ে নেওয়া টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আরিফ হোসেন (২৬) ও সাকিব (১৭)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে হালিশহরের বৌ-বাজার ও বড়পুল এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবুল হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার। তাঁর অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একদল ব্যক্তির হাতে জিম্মি হন তিনি। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সংগ্রহের কাজে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে যান আবুল হোসাইন। সেখানে পৌঁছালে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ধরে। অবৈধ কাজে সেখানে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন সড়কে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এ সময় সাংবাদিকের কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অভিযুক্তরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর আদায় করা হয়।

এরপর ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক দফায় ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে একটি নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং পাঁচ মিনিট পর একই নম্বরে আরও ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ও ৬টা ৩ মিনিটে অন্য দুটি নম্বরে যথাক্রমে পাঁচ হাজার ও চার হাজার ৮০০ টাকা ক্যাশ আউট করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পরও সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক বিভিন্ন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় এবং সেগুলো মুঠোফোনে ভিডিও করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে বা আইনের আশ্রয় নিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হালিশহর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ ও অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আট নম্বর আসামি আরিফ হোসেনকে বৌ-বাজার এলাকা থেকে এবং কিশোর সাকিবকে বড়পুল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, মামলা হওয়ার পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিকাশের লেনদেনের তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিক আবুল হোসাইন জানান, মুক্তি পাওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন তিনি। পরে থানায় মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, তাঁকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি জোর করে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো লুট হওয়া নগদ টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ উদ্ধার হয়নি।

সর্বশেষ