এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি, গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকে সামনে রেখে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের সাইডলাইনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি, কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাকুয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন তিনি।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। আলোচনার শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি জানান।
এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। এ সময় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তার বিষয়টি সৌদি মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। জবাবে সৌদি মন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়। এ জন্য প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
কাতারের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহে গুরুত্ব
কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এলএনজি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বর্তমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহপথে বৈচিত্র্য আনার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিরা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ অ্যাকুয়া পাওয়ারের
এদিকে, সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাকুয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য উৎসের বিকাশ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাকুয়া পাওয়ারের আগ্রহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

