হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে দুই মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানি বাহিনীর নৌ শাখা এ তথ্য জানিয়েছে।
আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ট্যাংকারটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে। এতে জাহাজটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়।
ইরানি বাহিনীর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জাহাজটি প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় জাহাজটির অবস্থান শনাক্তকরণ ও রাডার-সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে এ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর করলেও কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে পারে।
তবে ট্যাংকারটির নাম, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের এই দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে গেলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটি ছেড়ে চলে গেলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি ঘটবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে রাজি না হলে দেশটিকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

