মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম:চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জালিয়াতি ও ভুয়া নথি ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং দুটি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার সাবেক দুই কর্মকর্তা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন চসিকের সাবেক প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন (৫৫), ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) কুমিল্লা শাখার তৎকালীন এফভিপি ও শাখাপ্রধান সারোয়ার আলম (৪৫) এবং এনআরবি ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার সাবেক এভিপি ও শাখাপ্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল (৪৫)।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, ২০২২ সালে দুদকের করা মামলায় এই তিন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এক নম্বর আসামি মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন বলেও জানান দুদকের এই আইনজীবী।
যেভাবে আত্মসাতের অভিযোগ
দুদকের নথি অনুযায়ী, চসিকের ‘অলংকার থেকে নিমতলা পর্যন্ত পোর্ট কানেক্টিং রোড উন্নয়ন’ প্রকল্পের কার্যাদেশ পাওয়ার পর মূল ঠিকাদার নিজে কাজ না করে অবৈধভাবে আমমোক্তারনামা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে ভুয়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিয়ে ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রাক্কলিত আর্থিক ক্ষতি ও আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
২০২২ সালে দায়ের করা এ মামলায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যাদেশ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা হস্তান্তর, ব্যাংকিং নথি এবং অর্থ উত্তোলনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
সর্বশেষ আদালতের আদেশে তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলেও মামলার অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

