৩৩ বছর পর জেএম সেন হলে প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমানের সফর ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম :
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী যাত্রামোহন সেন হল (জেএম সেন হল) প্রাঙ্গণে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামীকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯৯৩ সালে এ হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তাঁর মা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসছেন তাঁর ছেলে। ১০৬ বছরের ইতিহাসে এই দুজনই জেএম সেন হলে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী।

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) পাশাপাশি কাজ করবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য, ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশ ও এসআরবির বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

সন্ধ্যা ৬টায় বিমানবন্দর থেকে জেএম সেন হলে

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, প্রধানমন্ত্রী সামরিক বিমানে চট্টগ্রামে আসবেন। সন্ধ্যা ৬টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে সরাসরি জেএম সেন হলে যাবেন তিনি।

সেখানে মহানবমীর সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণকে ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসএসএফের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসআরবি, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

১৯৯৩ সালে এসেছিলেন খালেদা জিয়া

চট্টগ্রামের প্রথম টাউন হল হিসেবে পরিচিত জেএম সেন হলের প্রাঙ্গণ উদ্বোধন করা হয়েছিল ১৯২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ইতিহাসে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের কেন্দ্র হয়ে ওঠা এই স্থানে এবার দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, ১৯৯৩ সালে তাঁর বাবা, সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রচেষ্টা ও আমন্ত্রণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেএম সেন হলে এসেছিলেন। ৩৩ বছর পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তিনি বিরল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি সেখানে তাঁর সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

দলীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক

জেএম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সভায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা দলীয় প্রধানের সামনে নিজেদের মতামত, পরামর্শ এবং স্থানীয় রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক বৈঠকও থাকায় প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি যুক্ত হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান।

সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যোগদান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এবারের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে নগরজুড়ে প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ