সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, শোক সইতে না পেরে প্রাণ গেল ফুফুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নজরুলের পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকার সময়ও তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি তাঁদের। প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন নজরুল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, কীভাবে বিচার হয়েছে কিংবা মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হতে যাচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে পরিবারকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।

- Advertisement -

গত বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি তিনি।

নজরুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা রহিমা বেগম। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভাতিজার মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে তাঁর ফুফু আবেদা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির জানান, ছেলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং কেন তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানেন না তিনি। হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর দেখে বিষয়টি জানতে পারেন।

আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলে কী কারণে জেলে ছিল, তা এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। যাওয়ার ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এখন ঋণদাতারাও চাপ দিচ্ছেন।’

ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে থাকে, তাহলে এর বিচার চাই।’

এদিকে নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মরদেহ দেশে ফিরলে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানান, এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, মরদেহ দেশে ফিরলে নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হওয়ায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ছেলের মৃত্যুর কারণ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়া, বিদেশে পাঠাতে নেওয়া ঋণের বোঝা এবং মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা—সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে নজরুলের পরিবারের। এখন তাঁদের প্রধান চাওয়া, ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা।

সর্বশেষ