হৃদরোগেও ভুগছেন খালেদা জিয়া, প্রেসক্রিপশন রোববার

spot_img
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। কারাগারে এক ঘণ্টার অধিক সময় ছিলেন খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পাঁচ সদস্য।

কারাফটকে এসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন ডা. মাহমুদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মেডিকেল বোর্ডের সদস্য প্রায় ২০ মিনিট ধরে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। রোববার চিকিৎসকরা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জন্য প্রেসক্রিপশন দেবেন।

- Advertisement -

কী সমস্যা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওনার পূর্বের যে সমস্যাগুলো ছিল যেমন আর্থাইটিস, হাঁটুতে ব্যথা ও হৃদযন্ত্রে ব্যথা রয়েছে।’

দেশের বাইরে নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী সার্জন বলেন, ‘এ বিষয়ে বোর্ডের মতামত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।’

প্রেসক্রিপশন দিয়েছে কি-না জানতে চাইলে বলেন, ‘রিপোর্ট পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য অবনতির দিকে যাচ্ছে কি না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সেটিও বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাবে।’

শনিবার দুপুর ২টার দিকে বিএসএমএমইউ থেকে রওনা দেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা। বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারাগারে ঢোকেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাঁচ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডটি শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কারাগার অধিদফতরে পৌঁছায়। পরে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই মেডিকেল বোর্ড বৃহস্পতিবার গঠন করা হয়।

কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক হারিসুল হক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী, চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক রেজা আলী ও ফিজিকেল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বদরুন্নেসা আহমেদ এই বোর্ডে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

সরকারের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরির পরিকল্পনা থেকে অনুগত ও পছন্দের লোকদের দিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে বিএনপির পক্ষ থেকে এই বোর্ডে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে পাঁচ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। ওই দিনই তাকে আদালত থেকে নেওয়া হয় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত সাত মাসের বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে সাজা ভোগ করছেন।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকেই বিএনপি দাবি করে আসছে, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তার সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি করা হয়।

এদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার একাধিক শুনানির তারিখ পড়লেও সেসব শুনানিতে শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে হাজির হননি খালেদা জিয়া। সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার ওই আদালত স্থানান্তর করা হয় কারাগারে। ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারেই বসে আদালত। সেদিন আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া বলেন, শারীরিক অবস্থার কারণে তার পক্ষে আর আদালতে হাজির হওয়া সম্ভব না। আদালত যা খুশি সাজা দিতে পারেন।

পরে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে আদালত বসলেও হাজির হননি খালেদা জিয়া। এর মধ্যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড কিংবা অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তির কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেল কোড অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই বিএসএমএমইউয়ের পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত হয়েছে মেডিকেল বোর্ড।

সর্বশেষ