রাজধানীতে আজ পাল্টাপাল্টি শোডাউন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে ছাড় দিতে রাজি নয়। সমঝোতার নেই কোনো লক্ষণও। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই দল দু’টির কাছে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আজও রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি আছে দুই দলে। এমনই অবস্থায় আগামী দিনে অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কা সাধারণ মানুষের।

- Advertisement -

সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে আজ ঢাকায় সমাবেশ করবে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে বিকাল তিনটায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুগপৎ ধারার এ কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করবে সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোট। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর দিকে বুধবার সন্ধ্যায় ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ’-এর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগও।

শুক্রবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হবে এ সমাবেশ। শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থাকবেন।

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির অবসান না হওয়া ও সমঝোতার লক্ষণ না থাকার কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগামী নভেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা। ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণ। সে হিসেবে নির্বাচনের আর মাত্র চার মাসের কম সময় বাকি। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে এখনো আগের অবস্থানেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এমনকি সরকারি দলের সঙ্গে কোনো সংলাপে বসতেও তারা রাজি নয়। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এবার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। সংবিধান অনুযায়ী দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে গত ১ বছরের বেশি সময় ধরে রাজপথে আছে বিএনপি। ১০ দফার আন্দোলন এখন সরকার পতনের এক দফায় পরিণত হয়েছে। টানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে দলটি। অন্যদিকে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এতদিন জাতীয় পর্যায়ে থাকলেও এখন তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৌঁছেছে।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের আনাগোনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন-রাশিয়াসহ বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকরা ঢাকা সফর করেছেন। তারা সরকারি দল, বিএনপি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন। সবাই আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চেয়েছেন। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যেই দাবি বিএনপি তুলছে, সেটি নিয়ে কেউ কিছু বলেননি। এমনকি সরকারের ওপর অব্যাহত চাপ দেওয়া ও ভিসানীতির কারণে যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিএনপি এখন নিজেদের সবচেয়ে বড় বন্ধু মনে করছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে কিছু বলেনি। ফলে বিদেশি মুরব্বিদের মাধ্যমেও বিএনপির যেই দাবি সেটি পূরণ হওয়া বা সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত নেই।

এরই মধ্যে ভারতে সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হাস্যোজ্জ্বল সেলফি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরব উপস্থিতিতে বিএনপির আন্দোলনে ভাটা পড়বে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সেলফি দেখে বিএনপি নেতাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেলফিতে রক্ষা হবে না।

এদিকে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দেশের প্রধান দুই দল দুই মেরুতে অস্থান করলেও রাজপথ নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে দল দু’টি এক অবস্থানে আছে। দুই দলের নেতারাই রাজপথ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান। গত ১২ জুলাই রাজধানীর নয়া পল্টনে বিশাল সমাবেশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা করে বিএনপি। একইদিনে আওয়ামী লীগও ঘোষণা দিয়ে বলে যে, দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। এরপর থেকে দু’টি দলের একের পর এক পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলছে। এসব কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং গণপরিবহণে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

সবশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। রাজধানীর রামপুরা ও শ্যামলীতে পৃথকভাবে এই গণমিছিল কর্মসূচি পালন করে দলটির নেতাকর্মীরা। সেখানেও সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের এক দফা দাবি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। একই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। সেখানে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। নির্বাচন কারও জন্য থেকে থাকবে না। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।’

সর্বশেষ