নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. শামীমসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৭ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. শামীম (৩৫), মো. সাজ্জাদ আলম শুভ (৩২), মারুফ (২৭) এবং সুমন (৩০)। তাদের মধ্যে শামীম মামলার প্রধান আসামি এবং সাজ্জাদ আলম শুভ ও মারুফ এজাহারভুক্ত আসামি। সুমনের নাম তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, নিহত মো. রিফাত (২৮) পাহাড়তলী থানার আব্দুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৩ জুন সকাল পৌনে ৮টার দিকে সাজ্জাদ আলম শুভ কৌশলে রিফাতকে বাসা থেকে ডেকে দক্ষিণ কাট্টলীর আব্দুল সুফী চৌধুরী গ্যারেজ সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা শামীম, মারুফ এবং তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী সংঘবদ্ধভাবে রিফাতের ওপর হামলা চালায়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা রিফাতকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত শামীম হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে রিফাতের বাম হাঁটুর ওপরে আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২৪ জুন দায়ের করা হয়।
র্যাব জানায়, তাদের কাছে তথ্য ছিল প্রধান আসামি শামীম ও সাজ্জাদ আলম শুভ সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর রোববার দুপুরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আরও দুটি দল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকা থেকে মারুফকে এবং হালিশহরের মাইজপাড়া এলাকা থেকে তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




