# শ্রমিকদের পাওনা না দিলে মিল হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না
# ০১ জুলাই প্রতিকীমূলে সেনা বাহিনী হস্তান্তরের অনুমতি সরকারের
# ২০১২ সালের ৩০জুন পযন্ত পাওনা ২০ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্ধ ফৌজদারহাট জলিল টেক্সটাইল মিলের ১ হাজার ৭৩ শ্রমিকের পাওয়া দাবিতে সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। মিল হস্তান্তরে পূর্বে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি জানান শ্রমিক নেতৃবন্দ। শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে মিল হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবন্দ। ১৯৯৬ সালে মিলটি বন্ধের পর নানা ঘাট পেরিয়ে গত ১ জুলাই বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যে সেনা বাহিনীকে হস্তান্তর অনুমতি দিয়েছে সরকার।
জলিল টেক্সটাইল মিলস্ ওয়ার্কাস ইউনিয়ন (সিবিএ) উদ্যোগে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে মিল গেইটে জলিল টেক্সটাইল মিল তৃতীয় কোন পক্ষের নিকট হস্তান্তরের পূর্বে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরিক্ষিত প্রাপ্য বকেয়া মজুরী, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুয়িটিসহ সার্ভিস বেনিফিটের টাকা প্রদানের দাবিতে সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা।
সংগঠনের সভাপতি মো: মছি উদ-দৌলার সভাপতিত্বে মোহাম্মদ জামশেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ফৌজদারহাট- বাড়বকুণ্ড অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এডভোকেট জহুির উদ্দিন মাহামুদ, মিল সিবিএর সহ সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম আজাদ ও দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ।
১৯৭২ সালের জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড রাষ্ট্রপ্রতির আদেশ নং ২৭মূলে রাষ্ট্রায়ত্ব সূতা ও বস্ত্রকল ছিল। ১৯৮২ সালের নতুন শিল্পনীতি/বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতিমালার আলোকে সরকার মিলটি শেয়ার হোল্ডারে মালিকদের নিকট শ্রমিক কর্মচারী চাকুরীর শর্তসহ সকল দায়-দেনা বিগত ১৯৮২ সালের ১৫ নভেম্বর তারিখে দ্বি-পাক্ষিক ও ত্রি-পাক্ষিক চুক্তিমূলে শতভাগ শেয়ার হস্তান্তর করে। দীর্ঘ আইনি পক্রিয়া শেষে ১৯৯৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর তারিখে সরকার মিলটি অধিগ্রহণ করেন। একই তারিখে সম্পাদিত দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে মিলের শ্রমিক -কর্মচারীদের চাকুরীর শর্ত ও সকল দায় দেনাসহ উক্ত মিলের ৫০% শেয়ারের মালিক এম.এ সেলিম চৌধুরী গংদের নিকট মিলটি হস্তান্তর করে।
শ্রমিক নেতৃবন্দ বলেন, ২০১২ সালের ৩০জুন পযন্ত মন্ত্রণালয়ের অডিট ফামস নিরিক্ষানুযায়ী ১০৭৩ জন প্রমিক-কর্মচারী কর্মকর্তার পাওনা ২০ কোটি ৫৭ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০৮ টাকা।
ওই সময় সম্পাদিত ত্রি-পাক্ষিক সময্যেতা চুক্তির “খ” বা শর্তানুযায়ী শ্রমিক-কর্মায়ী ও কর্মকর্তাদের পাওনা পরিশোষ না করা পর্যন্ত লে.-এফ এর ন্যায় আর্থিক সুবিধ প্রদানের শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষিত।
গত ৩০ এপ্রিল সর্বশের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নিকট আবেদন করেও এ পযন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন যাবত উক্ত মিলের প্রমিক-কর্মচারীরা পাওনা না পেয়ে চিকিৎসাসহ নানা অভাব অনটনে দিন পর করছে। অনেক প্রমিক কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন। ওই সকল শ্রমিক পরিবার পরিজন চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে বলে জানান বক্তারা।
গত ০১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে ৫৪.৯৯ একর এ জলিল টেক্সটাইল মিলটি চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) বা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যেই বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলের নিয়ন্ত্রণাধীন টেক্সটাইল মিলটি চট্টগ্রাম জেলার ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত।
এই সংবাদ দৈনিক সমকালে প্রকাশিত হওয়ার পর গত ৩০ জুলাই পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কাছে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবি জানিয়ে লিখিতভাবে মিলের সিবিএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানান সিবিএন নেতৃবন্দ।




