নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উত্থাপিত দাবিগুলোর অনেকগুলোই সরকারের অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলাম ও ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননা রোধে কঠোর আইন করা, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করা, ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪ সালের সহিংসতার বিচার, দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি এবং কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদ নিষিদ্ধ করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে কথিত মিশনারি অপতৎপরতা বন্ধ, আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ও তাবলিগের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিও জানায় হেফাজত।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন হবে না।’
তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের মামলার চার্জশিট হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিচার শুরু হবে। আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তালিকা দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত পদে নিয়োগের বিষয়েও সরকার কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করবে। মদিনা ও সাহাবাদের চর্চিত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হবে।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানান মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। পরে বাবুনগরীর খাস কামরায় দুজনের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অন্য কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পরে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্ষম হলেও রমজান শেষে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট ও পাচারের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্যা ও মানুষের দাবিদাওয়া পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে। উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের এ সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের পর সরকার ও হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় হওয়ায় এ সাক্ষাৎ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।




