spot_imgspot_img

শিশু ধর্ষণ-হত্যা: পাবনায় প্রধান আসামির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

পাবনা প্রতিনিধি:
spot_img

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এ ভাঙচুর চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একপর্যায়ে দুই তলা বাড়িটির দরজা-জানালা, আসবাবসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়। বড় হাতুড়ি দিয়ে বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ভাঙতে দেখা যায়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জুমার নামাজ শেষে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন। শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ লোকজন সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে একদল মানুষ বাড়িটিতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন পুলিশের সহায়তায় সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রথমে ঘরের আসবাবপত্র ও দরজা-জানালা ভাঙা হয়। পরে হামলাকারীরা বাড়িটির দেয়াল ও ছাদে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। কয়েক ঘণ্টার ভাঙচুরে বাড়িটির বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সন্ধ্যার দিকে দোতলা বাড়িটিকে অনেকটা কঙ্কালসার অবস্থায় দেখা যায়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু স্থানীয় মানুষের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় শুরুতে ভাঙচুর ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই দিন বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি বাজারে গিয়েছিল সে। বাজার থেকে বাড়ি ফিরে মায়ের হাতে বাজারের ব্যাগ দিয়ে আবার বাইরে বের হয়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরে বাড়ির কাছাকাছি প্রায় ২০০ গজ দূরে তার একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। পরদিন শিশুটির বাবা থানায় জিডি করেন।

শিশুটির সন্ধানের দাবিতে ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলা শহরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই দিন শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা করেন।

পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই পুলিশ প্রধান আসামি মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তাঁর বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে (২১) গ্রেপ্তার করে। পরে অপহরণের মামলায় ধর্ষণ ও হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফা প্রামাণিক একজন মুদিদোকানি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, শিশুটিকে হত্যার আগে মোস্তফা ও ইয়াছিন দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যার ঘটনা গোপন করতে দুজন শিশুটিকে খোঁজার অভিনয় করেন। পরে মরদেহ মোস্তফার বাড়ির একটি খাটের নিচে রাখা হয়। এরপর মরদেহ খণ্ডিত করে বস্তায় ভরে দুটি ইট বেঁধে বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরে মরদেহটি ডোবা থেকে তুলে সেপটিক ট্যাংকে ফেলার চেষ্টা করা হলেও দুর্গন্ধের কারণে কুকুরের দল সেখানে চলে আসায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে মরদেহ ডোবাতেই পড়ে থাকে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

শিশুটিকে এমন নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সেই ক্ষোভ থেকেই প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন বলেন, শিশুটির সঙ্গে যারা এমন নির্মম আচরণ করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তাঁরা। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ