ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে গতি আনতে চান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী, তিন মাসের সময়সীমা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক সড়কব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়নে তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন তিনি। দক্ষ চালক তৈরিতে ভালো ফল করা প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দিয়েছেন মন্ত্রী।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী ভবনে ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষদের কাছে গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বিদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী করতে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই। অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে বিদেশে চালক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সড়কব্যবস্থা ও যানবাহন চালানোর নিয়মের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বামপাশে গাড়ি চালানোর নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চালকদের অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। তাই দেশেই বামপাশে গাড়ি চালানোর পর্যাপ্ত অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নেভিগেশন, সড়কের মানচিত্র, ট্রাফিক সংকেত ও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দিতে হবে।

ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা দিয়ে একজন দক্ষ চালক তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রশিক্ষণার্থীদের পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং গাড়ির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরই তাদের সড়কে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। এর আগে মাঠ কিংবা নিরাপদ খোলা জায়গায় অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই প্রশিক্ষণার্থীদের চোখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। কারও দৃষ্টিজনিত সমস্যা থাকলে তার উপযোগিতা বিবেচনা করে বিকল্প প্রশিক্ষণে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। কারণ, চোখের সমস্যা বিদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে যুক্ত হবেন নারীরাও

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনার আহ্বান জানান আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদেশের অনেক শহরে দৈনন্দিন জীবন ও বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে গাড়ি চালানোর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তাদের জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া গাড়ির প্রাথমিক যান্ত্রিক বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। গাড়িতে হঠাৎ কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা শনাক্ত করা এবং ছোটখাটো সমস্যা মোকাবিলার প্রাথমিক ধারণা চালকদের থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিন মাস পর অগ্রগতি পর্যালোচনা

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট টিটিসির অধ্যক্ষদের কাছ থেকে অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হবে। বিশেষ করে কতজন প্রশিক্ষণার্থীকে বামপাশে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যেকোনো প্রশিক্ষণকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। যেসব কেন্দ্রের অধ্যক্ষ অধিকসংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে দক্ষ চালক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন, তাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর মধ্যে মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের গাড়ি সচল রাখার নির্দেশ

প্রশিক্ষণের জন্য সরবরাহ করা গাড়িগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব গাড়ি কেবল প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেই ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ, ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং নিশ্চিত করতে হবে। গাড়ি অচল থাকলে প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন, যা প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাহত করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কর্মকর্তারা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আটটি বিভাগের ৬৪টি টিটিসির অধ্যক্ষ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ