দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে সবার মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

- Advertisement -

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের নির্মল প্রকৃতি, কাশফুলের শুভ্রতা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মধ্যে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যাশা জাগিয়ে তোলে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন বার্তা বহন করে দুর্গোৎসব। আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় আনন্দ ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে এ উৎসব পালন করে আসছে। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। এবারের দুর্গোৎসব সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আলোয় সবার জীবন আলোকিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সব নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নেও সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম জোরদার এবং ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সব ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় অনুশাসন পালনের পাশাপাশি মানবতার সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। সব ধরনের বিভেদ দূর করে মানবতা, ন্যায়বিচার ও কল্যাণের বার্তা সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।

সর্বশেষ