চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বরগুনায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা কাম্য নয়। পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বরগুনার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের সব সরকারি দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, এলাকার সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রম এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পায়।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অপচয় রোধের পাশাপাশি উন্নয়নকাজের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ কমানো এবং জেলার সার্বিক অগ্রগতিতে প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ওলি উল্লাহ, পুলিশ সুপার কুদরাত ই খুদা (পিপিএম সেবা), জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

