মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার গভীর রাতে চালানো এ হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একটি লজিস্টিক সেন্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করার দাবি সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা রাশিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে বাড়ছে টানাপোড়েন
ইউক্রেনের এই হামলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধ আরও গভীর হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, দুই দেশ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ ও মস্কো—কোনো পক্ষই এমন সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
জেলেনস্কির দাবি, এ ধরনের আলোচনা সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রুশ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থান নিয়েছে কিয়েভ।
রাশিয়ার প্রতি মার্কিন নীতির সমালোচনা জেলেনস্কির
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হবে। রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে উৎসাহ জোগাতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং গোয়েন্দা তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় এই হামলা মস্কো ও কিয়েভের চলমান সংঘাতের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের মধ্যকার মতবিরোধকেও সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের কৌশল এবং জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সূত্র: সিএনএন

