ইরানের বুশেহর পরমাণু কেন্দ্রে ৭০০ রুশ কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ বিশেষজ্ঞ ও কর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৭০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থা রোসাটম। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিট নির্মাণের কাজ অব্যাহত থাকায় এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক পরিস্থিতির ওপর কর্মী নিয়োগ ও মোতায়েনের গতি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

- Advertisement -

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে বুশেহর কেন্দ্রের নির্মাণ এলাকায় ১৪২ জন রুশ কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন আরও ৫০ জন। পর্যায়ক্রমে সেখানে মোট রুশ কর্মীর সংখ্যা ৭০০ জনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

লিখাচেভ জানান, কর্মী বাড়ানোর বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে কর্মী মোতায়েনের গতি কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রটিতে জনবল বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুশেহর থেকে রুশ কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লিখাচেভ বলেন, কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা চলার মধ্যে তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সেখানে রুশ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চ মাসে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কয়েক শ রুশ কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছিল রোসাটম। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার আবারও সেখানে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে ইরানে আরও আটটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিখাচেভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে তিনি বলেন, নতুন আটটি ইউনিট নির্মাণের জন্য দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়া শরৎকালে ইরানে ছোট আকারের বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের জন্যও একটি চুক্তি করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর রোসাটমের প্রধান জানিয়েছিলেন, বুশেহর কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পাশে এক হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার আরও দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে।

রাশিয়া ও ইরান ১৯৯৫ সালে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি করে। এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ওই ইউনিটটি ২০১১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে কেন্দ্রটিতে আরও দুটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য নতুন চুক্তি করে দুই দেশ। প্রস্তাবিত ইউনিট দুটির সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও বুশেহর কেন্দ্রের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার রাশিয়ার এই পরিকল্পনা ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে কর্মী মোতায়েন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।

সর্বশেষ