বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আইনজীবি প্যানেলের চার সদস্য দেখা করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি তার আইনজীবিদের জানান তার শারিরীক সমস্যা বাড়ছে বলে তিনি অনুভব করছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আপিল বিভাগ বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বহাল রাখার পর আইনজীবিরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। এই আইনজীবি দলের একজন সদস্য মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে বিবিসি রেডিওর সংবাদ দাতা মাসুদ হাসান খান জিজ্ঞেস করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বের করে আনার ব্যাপারে তারা কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন ?
জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে বেগম খালেদা জিয়া ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে একটি মামলায় সাজা প্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। অথচ আপনি দেখবেন আজকে থেকে দুই বছর আগে অনেক মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারি পরয়ানা দেওয়া হয়েছে। ইতি পূর্বে তিনি মুক্ত ছিলেন, তখনো সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকারী করা হয়নি। ৮ই ফেব্রুয়ারি জেলে যাওয়ার পরেও তার সেই গ্রেফতারি পরয়ান কার্যকারী করা হচ্ছে না। এর অর্থটা হলো এই যে, বেগম খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজা প্রাপ্ত হয়েছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলায় হাই কোর্টে দেয়া জামিন বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকারের এখানে একটা অসৎ উদ্দেশ্য আছে এভাবে যে, সরকার চায়না খালেদা জিয়ার সকল মামলায় একে বারে গ্রেফতার দেখান হোক, দেখালে তিনি সকল মামলা থেকে জামিন প্রাপ্ত হয়ে মুক্ত হয়ে আসবেন। সরকারের ইচ্ছা হলো খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দিন জাবত কারাগারে আবদ্ধ রাখা।
তাহলে তার এই মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া নিজে কী ভাবছেন ?
মাসুদ আহমেদ বলেন, ইতিমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে সরকার খুব সহজে তাকে জেল থেকে বের হতে দিতে চাচ্ছে না। কারন ২০১৮ সালে নির্বাচনে সরকার তাকে দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে রেখে ২০১৪ সনের মতো আবার সেই পাতানো নির্বাচন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে পারবেন। আমরা যেটা আসা করছি নিম্ন আদালত যেটা সরকারের অধিনস্থ বলেই আমরা মনে করি। নিম্ন আদালতের আচরণ দেখে তাই মনে হয়। কারণ একটা কথা না বললেই নয় নড়াইলে একটি মামলা যে মামলায় আমি নিজেই নড়াইলে গিয়েছিলাম। সেখানের একটি আদালত যে আদেশ দিয়েছে আজকে দুইটি মামলায় ঢাকার দুইটি কোর্ট একই আদেশ দিয়েছে এবং এই আদেশের ভাষা গুলো শব্দচরণ সব একই ছিল। এটা থেকে খুব সহজেই প্রতিয়মান হয় ঊঁচু মহলের কেউ এই আদালতকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। শুধু এই নিয়ন্ত্রীত ব্যবহার যখন খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছে, তখন পরিষ্কার হয়ে যায়।
তিনি কী বলেছেন আপনাদের?
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেগম জিয়া বলেছেন যে, আপনারা নিম্ন আদালতকে এভাবে অধিনস্থ করতে লক্ষ্য করা যায় তাহলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালতে যাই এবং এই আদালত সমূহের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিকার চাই। যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি যে সকল মামলায় সরকার গ্রেফতার দেখাতে অনিহা দেখাচ্ছে সেই সকল মামলায় গ্রেফতার এবং পরবর্তী জামিনের মুক্তির কার্যক্রম গ্রহন করতে আমরা পারি।
বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কথা উঠেছিল। আচ্ছা বলেন, তিনি তার সাস্থ্য সম্পর্কে কি বললেন ?
জবাবে মাসুদ আহমেদ বলেন, আমরা যখন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে যাই, তখন তিনি যেভাবে হেঁটে আসছিলেন আমাদের কাছে তা সত্যি খুব কষ্টদায়ক, তিনি বসেও স্বস্তি অনুভব করেন নি। তিনি নিজের মুখে আমাদের কে বলেছিলেন ক্রমান্নয়ে আমি খুব বেশি অসুবিধা অনুভব করতেছি। এবং তিনি আমাদেরকে এভাবে বলেছেন, আমি অতীতেও বলেছি এখনও বলছি যদি দেশের কোন বিশেষ কোন হাসপাতালে আমার যে সকল সমস্যা সমূহ আছে তা যদি চিকিৎসা করা হতো, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমি আরোগ্য লাভ করতে পারতাম বলে আমি মনে করি। তার চেয়ে বড় কথা হলো পবিত্র রমজান মাসে আমরা সিয়াম সাধন সহজ হতো যদি ভালো কোথাও চিকিৎসা করে আরোগ্য লাভ হতে পারতাম।
অর্থাৎ এই সময়টা যেন নাজিমুদ্দিন রোড থেকে সড়িয়ে কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তিনি কী কোন বিশেষ হাসপাতালের কথা উল্লেখ করেছেন ?
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেন যে আমাদের এখানে যে ইউনাইটেড হসপিটাল আছে সেটা সম্পর্কে, আর আমাদের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে যে এটার প্রতি উনার আস্থা আছে। সে কারণে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের কথা বলেছেন।
এ ব্যাপারে আপনারা জেল কর্তৃপক্ষের সাথে কথাবার্তা বলবেন বা কোন উদ্যোগ নিবেন ?
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের হাইপাওয়ার একটা ডেলিগেসন এদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাদের বেগম খালেদা জিয়ার শরীরের যে অবস্থা সেটা তিনি অবহিত করে এসেছিলেন। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব তাড়াতাড়ি কথাগুলো যোগ করেছিলেন। কিন্তু একটা বিষয় আমরা লক্ষ করলাম যে তার কথা বলা আর কাজের মধ্যে আমরা খুব একটা সমন্বয় পাচ্ছি না। তার পরেও যতদিন বেগম খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করে না আনতে পারি এবং তার ইচ্ছা মতো জায়গায় চিকিৎসা করতে না পারি, সরকারের বিভিন্ন মহল এবং যে সমস্ত মহল এর সাথে সঞ্চার তাদের সাথে এবং জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা বারবার এ আবেদন নিবেদন করবো যে যেন তার দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য, তার ইচ্ছা মতো হাসপাতালে ভর্তি করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো হয়। এ ব্যাপারে আমরা সকল ধরনের আইনি এবং আইনের বাহিরে মানবিক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।