র্যাবের পর এবার পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলো তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রেহান উদ্দিন (২৮)। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার সময় চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার গুলিয়াখালী সন্দ্বীপ ফেরী ঘাটে নিহত হয় রেহান। এসময় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চিহ্নিত ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেহানের তিন সহযোগীকে আটক করার কথা জানিয়ে পুলিশ বলছে এ ঘটনায় তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান জানায়, রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে বের হলে মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালি সাগরপাড় এলাকায় সন্দ্বীপ ফেরীঘাটের কাছে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গুলিছুঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টাগুলি চালায়। এক পযার্য়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে ৩ জনকে আটক করা হয় এবং ঘটনাস্থলে রেহানের লাশ পাওয়া যায়।
নিহত রেহান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসাযী ও পাচারকারী। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, মাদক আইনে তিনটিসহ সীতাকুণ্ড থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানায় ওসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম মো. রেহান প্রকাশ রিহান (২৭)। সে ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া এলাকার মালিউল হকের দ্বিতীয় পুত্র। তার বড় ভাইয়ের নাম জাহাঙ্গীর (রনি)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত রেহানের এক প্রতিবেশি জানিয়েছে রেহান মাদক সেবন করত আর পেশায় ছিলো চুরি ডাকাতি। তেমন বড় কোন অপরাধী বলে আমাদের কারো জানা নেই। তবে তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী খুশি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে নিহত রেহান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী উল্লেখ করে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক জানিয়েছে শনিবার রাতে ইয়াবা পাচারের খবর শুনে সীতাকুণ্ড উপজেলা সাগর উপকূলে বেড়িবাঁধে অবিযানে যায় পুলিশ। রাতে নড়ালিয়া এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় রেহান। ঘটনাস্থল থেকে জাফর, কালা সুমন ও টিটু নামে তার ৩ সহযোগীকে আটক করা হয়।
উদ্ধার করা হয় দুটি এলজি, ১০ রাউন্ড গুলি, চাপাতি, ছোরা ও ৫ হাজার ইয়াবা। এছাড়া এ বন্দুকযুদ্ধে আহত তিন পুলিশ সদস্যকে উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি তদন্ত।