মো.মোক্তার হোসেন বাবু: চট্টগ্রামে কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগর ও জেলার জনজীবন। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও শীতল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার কারণে সড়ক, রেল ও নৌপথে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, হকার ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। অনেকেই কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় পরিবার নিয়ে পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। নগরের ফুটপাত, বস্তি ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী মানুষ শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এদিকে তীব্র শীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া ভোরের দিকে বাইরে না যাওয়ার এবং শীতবস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।

ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। দেরিতে পণ্য ওঠানামা হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি সকালে সূর্যের দেখা না মেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাসের প্রভাবে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে গেছে এবং আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে চলতি মৌসুমের অন্যতম তীব্র শৈতপ্রবাহ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত আরও বেশি শীতবস্ত্র বিতরণ ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা সেবা জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।




