দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদারের সহযোগী দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বুধবার সকালে তাদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র্যাব-৩।
বুধবার সকালে কাওরানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। মূলত এই প্রতারণার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের বাবা পিপলস লিজিংয়ের তৎকালীন পরিচালক খবির উদ্দিন আহমেদ সরাসরি জড়িত বলে জানায় সংস্থাটি।
শুধু দুই মেয়ে নয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামেও খবির উদ্দিন ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় দুই শত কোটি টাকা ঋণ নেয়। যার একটি টাকাও পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানায় সংস্থাটি। পরে পরিবারের দুই সদস্য তানিয়া ও শারমিনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২৮ জুলাই খবির উদ্দিনের দুই মেয়ে দেশে আসেন বলে র্যাবের কাছে খবর আসে। এরপর থেকেই গোয়েন্দা ও র্যাব ৩ সদস্যরা তাদের সন্ধানে অভিযানে নামে।
র্যাব বলছে, প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের এই দুই সহযোগী ২০০৩ এবং ২০০৪ সাল থেকে কানাডায় বসবাস করেন। আদালতের নিষেধ ভেঙে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনায় ভোররাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিমানবন্দরে পৌঁছান শারমিন ও তানিয়া। আটকের পর তারা নাম পরিচয় গোপান করারও চেষ্টা করেন।
কেন তারা ঢাকায় এসেছিলেন প্রশ্ন করলে র্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পারিবারিক প্রোগ্রামে অংশ নিতে তারা ঢাকায় আসেন। পুরোটা সময় তারা আত্মগোপনে ছিলেন।
কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত ১৪ মে পলাতক পি কে হালদারকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে ভারতের আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেপ্তারের আগে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদারের প্রাসাদের মতো বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পায় ইডি।