মো.মোক্তার হোসেন বাবু: চলতি বছর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে হচ্ছেনা। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্গো ফ্লাইট চালু হলে শুধু গার্মেন্টস নয়, চট্টগ্রাম থেকে সবজি, ফলমূলসহ কৃষিপণ্যের রপ্তানিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে সেজন্য সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
জানা গেছে, অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকায় অন্তত আরও ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে একসময় এমিরেটস স্কাই, ইত্তেহাদ, কুয়েত এয়ার, থাই এয়ার ও সিল্ক এয়ারলাইন্সের কার্গো ফ্লাইট চলত। কিন্তু ধীরে ধীরে সব ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ এমিরেটস স্কাই ২০২২ সালে বন্ধ হওয়ার পর থেকে পুরোপুরি থেমে যায় শাহ আমানতের কার্গো অপারেশন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ার ইয়াং ওয়াং গ্রুপ এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য একটি ইডিএস স্ক্যানার কেনার প্রস্তাবও দিয়েছে। এছাড়া চীনের একটি এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানও ফ্লাইট চালুর আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুটি কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব এসেছে, যা উজবেকিস্তান ও চীনের রুট হয়ে ইউরোপে পৌঁছাবে। তবে সরাসরি ইউরোপ বা আমেরিকায় রপ্তানি পাঠাতে এখনই সক্ষম নয় শাহ আমানত বিমানবন্দর। বর্তমানে ইডিএস স্ক্যানার না থাকায় রপ্তানি পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বিমানবন্দরে স্ক্যানিং শেষে গন্তব্যে পাঠানো হয়। এতে রপ্তানিকারকদের খরচ ও সময়-দুই-ই বাড়ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করতে হলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একাধিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। এর মধ্যে ইডিএস স্ক্যানার স্থাপন, কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ ও আধুনিক কার্গো শেড গড়ে তোলার কাজ রয়েছে। এসব কাজ শেষ করতে কমপক্ষে কয়েক মাস সময় লাগবে। এ লক্ষ্যে প্রায় ৭০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু করতে হলে দুটি ইডিএস স্ক্যানার, আধুনিক কার্গো শেড এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের কার্গো অপারেশনের উপযোগী হয়ে উঠবে। ফেব্রুয়ারি নাগাদ এসব কাজ শেষ হওয়ার আশা করছি।