নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংকে জমা রাখা কষ্টার্জিত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনের সময় সেই টাকা তুলতে না পেরে চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন লাখো আমানতকারী। শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকদের এমন দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে ‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল, পূর্ণ মুনাফাসহ আমানত ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীরা এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২১ জানুয়ারির একটি সিদ্ধান্তের ফলে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের ওপর বিগত দুই বছরের মুনাফা কর্তন এবং মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আমানতকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, অধিকাংশ আমানতকারী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। জমি বিক্রির অর্থ, পেনশনের টাকা, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কিংবা চিকিৎসার জন্য সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রাখা হয়েছিল নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা থাকায় বহু পরিবার আজ মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
তাদের দাবি, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী কেনার সামর্থ্যও অনেক পরিবার হারিয়ে ফেলেছে। ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে অনেকে সামাজিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য ভয়াবহ সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, ‘হেয়ার কাট’ নামে পরিচিত বৈষম্যমূলক নীতি বাতিল করে গত দুই বছরের চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের মূল অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া, দেশের অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো এসব ব্যাংকেও সব ধরনের স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।
বক্তারা বলেন, তারা আইন ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। জাতীয় সংসদের সামনে মানববন্ধন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
তারা প্রধানমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শুধু আমানতকারীদের দুর্ভোগই কমবে না, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও পুনরুদ্ধার হবে।’
তবে দ্রুত সমাধান না হলে ব্যাংকগুলোর শাখা পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি, ব্যবস্থাপক অবরুদ্ধকরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাধারণ আমানতকারীদের পক্ষে সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সভাপতি খালেদ মোশাররফ, এম এ কাদের ও শারমিন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন এবং অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দীন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।




