মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য ও ওলামায়ে কেরাম এর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর আল্লামা শেখ আহমদ বলেন,দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিজমের অবসান হয় গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এ গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসের কিংবদন্তিতুল্য । এক হাজার চার শতাধিক নিহত এবং ৩০ হাজার আহত ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সফল হয় এই অভ্যুত্থান।অভূতপূর্ব এ অভ্যুত্থানে অংশ নেন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলেম-ওলামা এবং মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও।মূলত ২৪ এর এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা হয়েছিল ১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের নাস্তিক বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে।হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আলেম সমাজ ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে এবং ৬ মে হাটহাজারীতে অসংখ্য আলেম শহীদ হয়েছেন।২০২১ সালে ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে ৪ জন, বি বাড়িয়াতে ১৮ জন শহিদ, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ও শতাধিক আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন,আহত হয়েছে অনেকে। অনেক ইমাম-খতিব বিপ্লবের পক্ষে জুমার বয়ান দেওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন। এ ছাড়া সারাদেশে অসংখ্য আলেম-মাদরাসা ছাত্র শারীরিকভাবে নিগৃহীত হয়েছে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হেফাজতের নায়েবে আমীর আল্লামা আব্দুল আউয়াল জুলাই আন্দোলনে নেমে আসা মাদরাসা ছাত্রদের আবাবীলের সাথে তুলনা করে বলেন,জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা ছিল পুরোদস্তুর রণক্ষেত্র। যাত্রাবাড়ী বড় মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ আহ্বান করেন সংহতি সমাবেশ। ৩ আগস্ট সকালে কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে ‘সাধারণ আলেম সমাজে’র ব্যানারে দেশের পরিচিত আলেমদের নিয়ে সংহতি সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সর্বাত্মক সংহতি প্রকাশ করেন। সেখানে স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যান অনেক আলেম ও মাদরাসার ছাত্র। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শেষে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাজলা থেকে কুতুবখালী খাল পার হয়ে আরো সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে মোনাজাত এবং পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এভাবে যাত্রাবাড়ীর আলেম সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীরা মিশে যান জুলাই বিপ্লবের অংশ হয়ে।বিপ্লবী মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এই অংশ গ্রহণকে সরাসরি খোদায়ী নুসরাত আখ্যায়িত করে বলেন,যেন অত্যাচারী আব্রাহার বিরুদ্ধে খোদা প্রেরিত আবাবীল।
আন্দোলন পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করে মাদরাসার শিক্ষকরা এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে হাটহাজারী উপজেলা হেফাজতের সভাপতি মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী বলেন,আন্দোলনের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষার্থীরা আন্দোলনরত ছাত্রদের বিশ্রাম ও ওজু-ইস্তিঞ্জার ব্যাপারে নির্দ্বিধায় মাদরাসায় আসতে বলেন। তাদের জন্য মাদরাসা গেইট সর্বদা উন্মুক্ত। বারিধারা মাদরাসার স্বেচ্ছাসেবী প্রায় অর্ধশত ছাত্রদের ভাষ্য মতে, সেদিন আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে কত হাজার লিটার শরবত আর কতশত বিস্কুট বিতরণ করেছিলাম সংখ্যাটা বলতে পারব না। ৫ আগস্টের পর সারাদপশে শত শত তালিবুল ইলম মাদরাসার ছাত্র রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করে।প্রাথমিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ৭৭ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশের সকল জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন,হেফাজতের নায়েবে আমীর যথাক্রমে আল্লামা মুফতী জসিম উদ্দিন,আল্লামা শোয়াইব জমিরী,আল্লামা মুফতী কিফায়াতুল্লাহ,মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী,আল্লামা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী,হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী বশির উল্লাহ,যুগ্ম মহাসচিব যথাক্রমে মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির,মাওলানা মীর ইদরিস নদভী,সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাফর আহমদ,মাওলানা কুতুব উদ্দিন নানুপুরী,কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন হেফাজতের হাটহাজারী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার।
হেফাজতের হাটহাজারী উপজেলা সি: যুগ্ম সম্পাদক জনাব মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা শোয়াইব আলমপুরী,মাওলানা সায়েম উল্লাহ,মাওলানা কে এম আলমগীর মাসউদ,মাওলানা আনোয়ার শাহ আযহারী,মাওলানা ইয়াছিন,মাওলানা ইউনুস,মাওলানা কামরুল ইসলাম,মাওলানা নিজাম সাইয়্যিদ,মুফতী মাসউদুর রহমান চৌধুরী,আবু তাহের রাজিব প্রমূখ।




