নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নেওয়া চট্টগ্রাম ওয়াসার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে। একদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে প্রকল্পের পানি নগরে আনার ক্ষেত্রে অনুমতি মিলেছে, অন্যদিকে এতদিন পানি না নেওয়া কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) এখন ভান্ডালজুড়ির পানি নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি নিতে চায়। এ পানি সরবরাহের জন্য নিজেদের অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনে ইতোমধ্যে দরপত্রও আহ্বান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের দীর্ঘদিনের অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পানি শহরে আনার জন্য কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি পাওয়া গেছে। টানেল কর্তৃপক্ষের লোকজন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনও করেছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রকল্প থেকে পানি নিতে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা দৈনিক দুই কোটি লিটার পানি চায়। ইতোমধ্যে কেইপিজেড অভ্যন্তরীণ পাইপলাইন স্থাপনের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে কেইপিজেডে পানি দিতে পারব।’
দক্ষিণ চট্টগ্রামের দ্রুত বিকাশমান শিল্পাঞ্চলকে সামনে রেখেই ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। বোয়ালখালী উপজেলার ভান্ডালজুড়িতে কর্ণফুলী নদীর তীরে নির্মিত এ প্রকল্পে প্রতিদিন ছয় কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রয়েছে দৈনিক ৬ কোটি লিটার সক্ষমতার পানি শোধনাগার, ৬ কোটি ৬০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ইনটেক সুবিধা, প্রায় ১৩৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন এবং পানি সংরক্ষণের জন্য আনোয়ারায় ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ভূগর্ভস্থ জলাধার ও পটিয়ায় ৩ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার ওভারহেড রিজার্ভার।
প্রকল্পটি মূলত কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরের বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারা এলাকার আবাসিক গ্রাহকের পাশাপাশি কোরিয়ান ইপিজেড, চায়না ইকোনমিক জোন, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল), কাফকো, ডিএপি সার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়।




