নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আবু শাকিল সাগরের বাসায় অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বাসা থেকে ‘বিদেশি মদ’ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে অভিযানের সময় সাগর পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে শামসুল ও ওপেল নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে নগরের কেবি দোভাষ লেন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের একটি সূত্র অভিযান চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ কিংবা অভিযানের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আবু শাকিল সাগর বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তানভীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অভিযানে আটক দুজন হলেন-শামসুল ও ওপেল।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিবি দক্ষিণ বিভাগের একটি দল খুলশিকেন্দ্রিক এক অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করছিল। ওই সময় এক ব্যক্তি ডিবি সদস্যদের মদের ক্রেতা মনে করে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে মজুত করা মদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
ওই তথ্যের ভিত্তিতেই কেবি দোভাষ লেন এলাকায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আবু শাকিল সাগরের বাসায় অভিযান চালায় ডিবির সদস্যরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশের একটি সূত্র।
তবে ডিবির সদস্যরা বাসায় অভিযান চালানোর বিষয়টি টের পেয়ে সাগর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ সময় বাসায় থাকা শামসুল ও ওপেলকে আটক করে ডিবি।
অভিযানের বিষয়ে জানতে গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কাজী আবদুর রহীম এবং দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ শরীফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযান সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। তবে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযানের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ফলে অভিযানে ঠিক কত পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে, আটক দুজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ছাত্রদল নেতা সাগরের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী-এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।




