মো.মোক্তার হোসেন বাবু: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কনটেইনার বের করে নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগরের বন্দর থানা পুলিশ। গত ১১ আগস্ট বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে জাল কাগজপত্র ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে একটি ৪০ ফুট কনটেইনার বের করে নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑমো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও মো. সাইদুর রহমান (৫১)। মোর্শেদ আলম চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঝিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর আসামি সাইদুর রহমান পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার আশ্রয় নেন। এ সময় বিভিন্ন ধরনের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর তৈরি করে ‘অন-ডেট, অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্ট’-এর একটি কপি আসল কাগজপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরে ওই জাল কাগজপত্র দেখিয়ে MRSU 8692827 নম্বরের ৪০ ফুটের একটি পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে কনটেইনার বের করে নেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় সিএমপির বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বন্দর জোন)-এর তত্ত¡াবধানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিমের নেতৃত্বে অভিযানে থানার এসআই (নিঃ) সজিব কুমার আচার্য্যসহ পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে অভিযান চালিয়ে মোর্শেদ আলম ও সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কনটেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




