ইরানের অর্থনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের দরপতন এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। তবে এসব চাপের মধ্যেও ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

- Advertisement -

যুক্তরাষ্ট্র গত জুলাইয়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে। এর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করতে নতুন অভিযান শুরু করে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে তেল রপ্তানি কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে।

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সমুদ্রপথে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নেমে আসে। তেল রপ্তানি দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় এ পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

এদিকে ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত জুলাই থেকে রিয়ালের দর প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মুদ্রার এমন অবমূল্যায়নের প্রভাব পড়ছে দেশটির বাজারব্যবস্থায়। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও চাপে পড়ছে।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির এই উচ্চ হার দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হেম্মতি জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতির ওপর চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রিয়ালের দরপতন ঠেকাতে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নেয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং রিয়ালের ওপর চাপ কমানো।

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়া, মুদ্রার দরপতন এবং মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। তবে অর্থনীতি ধসে পড়ার মার্কিন দাবি নাকচ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং তেল রপ্তানিতে বাধার প্রভাব মোকাবিলা করাই ইরানের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।          সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ