সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এবং দাবি বিবেচনার আশ্বাসের পর দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। ফলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতা আবু তাহের। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ায় তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। গণশুনানির পর বিইআরসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ধর্মঘট চালালে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
এর আগে বুধবার সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তাঁরা।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার এলপিজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কারসাজি কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সরকার আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে প্রস্তুত। তবে দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
সাত দফা দাবিতে ধর্মঘটের ঘোষণা
ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা এবং হয়রানি বন্ধসহ ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান।
এসব দাবিতে গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবি পূরণ না হলে দুই দিনের কর্মসূচির পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
তবে সরকারের সঙ্গে বৈঠক এবং বিইআরসির গণশুনানির আশ্বাসের পর আপাতত সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ
এলপিজির দাম ও বাজারে প্রাপ্যতা নিয়েও ভোক্তাদের অসন্তোষ রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। এরপরও অনেক এলাকায় নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরদের দাবি, তাঁরা সরকার নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তাঁরা অস্বীকার করেছেন।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে আপাতত এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকার আশঙ্কা কমেছে। তবে পরিবেশকদের কমিশন, ব্যবসা পরিচালনায় হয়রানির অভিযোগ এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডারের প্রাপ্যতা নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করছে ২৯ অক্টোবরের গণশুনানি ও বিইআরসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

