হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় না করলে সংশ্লিষ্টদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবোল্লাহ সায়্যারি। তাঁর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে ইরানি নৌবাহিনীর পূর্ণ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহরের বরাতে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
সায়্যারি বলেন, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া যারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করবে, তাদের পরিণতি দেখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, নতুন সামরিক সরঞ্জাম এবং তরুণ সদস্যদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষের হুমকি মোকাবিলা করবে ইরান।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে দেশটির নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ওই এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডারের বক্তব্যের বিরোধিতা করে।
এর আগে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কাছাকাছি আসা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ওই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

