হরমুজ প্রণালির কাছে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই কার্গো জাহাজ, তেল সরবরাহে নতুন উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে পৃথক ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডুবে গেছে দুটি কার্গো জাহাজ। অজ্ঞাত বস্তু বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাহাজ দুটি ডুবে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ আঘাতের শিকার হয়। এতে আগুন ধরে যাওয়ার পর জাহাজটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি। তবে জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সিএনএনের যাচাই করা ভিডিওতে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। পরবর্তী ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্রে সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে থাকা পণ্য এবং তেলের পাতলা স্তরের উপস্থিতিও দেখা যায়। এতে ঘটনাটির সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জাহাজে হামলার ধরন নিয়ে ভিন্ন দাবি

জিএফএস প্রাইড কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা নিয়ে ভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি, অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পেয়েছিল। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এ দাবির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ধারণা, জাহাজটি ড্রোন হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারে।

তবে হামলার প্রকৃত ধরন এবং এর জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘কেপ দাও’ ডুবে যাওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। বুধবার জাহাজটি ডুবে যাওয়ার তথ্য জানা যায়।

হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করা হয়।

ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে জাহাজের বিমা ব্যয়, পরিবহন খরচ ও পণ্য সরবরাহের সময়ও বেড়ে যেতে পারে।

আইএমওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের মধ্যে জিএফএস প্রাইড ও কেপ দাও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেল পরিবহন ও বিশ্ববাজারে প্রভাব

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের পরিমাণ আবারও কমেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এতে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ, দায়ীদের পরিচয় এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।

সূত্র: সিএনএন

সর্বশেষ