মোঃ রাকিব:চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চুরির অভিযোগে ইমন (২১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আব্দুর রহমান জিসান (২১), ইয়াছিন আরাফাত (২৩), মো. হাসান (৩৩) ও মো. মিজানুর রহমান (২৭)। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে নগরের বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকা ও আশপাশে বসবাস করতেন। তাঁদের মধ্যে জিসানের বাড়ি বাকলিয়ার বাস্তুহারা এলাকায়, ইয়াছিনের কক্সবাজারের চকরিয়ায়, হাসানের পটিয়ায় এবং মিজানুর রহমানের নোয়াখালীর সুবর্ণচরে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন ইমন। এ সময় দোকানের ভেতরে তাঁকে ধরে ফেলেন দোকানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিজানুর রহমান। পরে তাঁকে আবাসিক এলাকার রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে কল্পলোক মডেল মসজিদের দক্ষিণ পাশে সাজেদা ফাউন্ডেশনের সংলগ্ন একটি খালি মাঠে নিয়ে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়। এতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বুধবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে কল্পলোক আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কের মুখে ৫ নম্বর সেতুর নিচে লাশটি ফেলে রেখে যান।
এ ঘটনায় ইমনের ফুফুর অভিযোগের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালায় পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, বাকলিয়া থানা-পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চুরির অভিযোগে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর করার অধিকার কারও নেই। এ ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও দায়ীদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে।

