সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর তরুণীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে জাতীয় পর্যায়ে বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশটির সরকারের এ উদ্যোগে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে তরুণীদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে দেশটিতে সব ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর আগস্টে চালু করা হয় ‘হাকিলি মুসো’ নামের একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এতে দেশটির ৮৪ জন তরুণী অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে তাঁদের মেধা যাচাই করা হয়। কৃতী প্রতিযোগীদের সম্মাননা ও বৃত্তি দেওয়া হয়।
ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকারের এই উদ্যোগকে নারীদের শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষা ও পেশাগত সহায়তার মাধ্যমে তরুণীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—এসটিইএম (STEM) বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা এবং এসব ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহ দেওয়া।
আফ্রিকা নেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে বুরকিনা ফাসোর সরকার। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাগুলো দেশটির নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ৮ জুন দেশটির যোগাযোগ, সংস্কৃতি, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়। এরপরই নারীদের মেধা ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতাকে সামনে আনার নতুন উদ্যোগটি আলোচনায় আসে।
বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা শেষে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি তরুণীদের নিজেদের মেধার ওপর আস্থা রাখতে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় বড় লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক পক্ষের মতে, সৌন্দর্যকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মেধা, জ্ঞান ও দক্ষতার মূল্যায়ন তরুণীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য এমন উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইনস্টাগ্রামে এক ব্যবহারকারী উদ্যোগটির প্রশংসা করে মন্তব্য করেন, এটি একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, যা অনেক তরুণীকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আরেক ব্যবহারকারীর মতে, একজন নারীকে শিক্ষিত করা মানে একটি পুরো পরিবারকে শিক্ষিত করার সুযোগ তৈরি করা।
তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন, বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করার প্রয়োজন কেন? তাঁদের মতে, নারীদের মেধা ও পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি নিজস্ব পছন্দ, সৌন্দর্য এবং নারীত্ব উদ্যাপনের স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, বিজ্ঞানচর্চা ও সৌন্দর্য উদ্যাপন—দুটিই একসঙ্গে চালু রাখা সম্ভব ছিল না কেন?
বুরকিনা ফাসোর এই উদ্যোগকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে নারীর অগ্রগতির পথ নির্ধারণের প্রশ্ন। একদিকে বিজ্ঞান ও শিক্ষায় তরুণীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য, অন্যদিকে ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার বিষয়টি। তবে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণীদের মেধা বিকাশে যে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশটির নারীশিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চা নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

