মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটি ছেড়ে না গেলে মার্কিন বাহিনীকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ অবস্থানের কথা জানান। খবর সিবিএস নিউজের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আকরামিনিয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে তাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই মুখপাত্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোন পর্যায়ের উপস্থিতি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি আকরামিনিয়া। চলমান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন সেনা, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন থাকা সব সেনা, নাকি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে আসার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বক্তব্য, দেশটির কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এই প্রণালি দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। দুই দেশের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
এরই মধ্যে গ্রিসভিত্তিক সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিস্কস বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রাখলেও নির্বিচার হামলার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। শনাক্ত হওয়া থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যে অনেক জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নৌপথটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

