ভারতের সঙ্গে আসন্ন পঞ্চম কনস্যুলার সংলাপে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত ফয়সালকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংলাপ। বৈঠকে প্রত্যর্পণের বিষয়টির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
সূত্রগুলো জানায়, সংলাপটি অক্টোবরের শেষদিকে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দুর্গাপূজার কারণে নভেম্বরের শুরুতে বৈঠকটি আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে ভারত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে বৈঠকের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে এর আগেও ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে ঢাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পরও বিষয়টি নিয়ে ভারতকে নতুন করে অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
এবারের সংলাপে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্ত ফয়সালকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই মহাপরিচালক পর্যায়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আসন্ন বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংলাপে এ বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়, তার ওপর দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক যোগাযোগের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।

