ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক বাগাড়ম্বর’ হিসেবে অভিহিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব ও উসকানিমূলক বক্তব্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় রাজনাথ সিং বলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত আগের চেয়েও কঠোর জবাব দেবে। তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের আগ্রাসনের হুমকি প্রতিফলিত হয়েছে।
সাজ্জাদ হায়দার খান নয়াদিল্লিকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, ভারতের এ ধরনের বক্তব্য দেশটির আধিপত্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় পাকিস্তান প্রস্তুত। দেশটির সংযম ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গত বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, সে সময়ের পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা এবং দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীদের দায়ী করে ভারত। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পাকিস্তান ওই হামলাকে বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণ বলে অভিহিত করে। কয়েক দিনের সংঘাতের পর ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি দেশটির অঙ্গীকার রয়েছে। তবে কোনো পক্ষের আগ্রাসন বা সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কঠোর অবস্থান ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

