নয় মাসের যুদ্ধের পর তীব্র অর্থসংকটে পড়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। নিজেদের সদস্যদের বেতন পরিশোধ করতেও বাহিনীটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তাঁর দাবি, অর্থসংকট সামাল দিতে ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে সেই অর্থ আইআরজিসিকে দিচ্ছে।
শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি আয় প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার কমেছে। এতে ইরানের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে।
কুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকের কয়েকটি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের অর্থায়ন ব্যবস্থায় চাপের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসব গোষ্ঠীর কিছু অর্থ আইআরজিসির দিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইরাকের কয়েকটি গোষ্ঠী নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে সেই অর্থ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইরানের আর্থিক চাপের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে থাকা দেশটির সম্পদ জব্দের তথ্য তুলে ধরেন সেন্টকম প্রধান। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেন্টকম ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ জব্দ করেছে। তবে এসব সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া ও অর্থের নির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
কুপার আরও দাবি করেন, অর্থসংকটের প্রভাব পড়েছে ইরানের সরকারি প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আটকে রেখেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সদস্যরাও রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।
তাঁর মতে, অর্থনৈতিক চাপ থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনেও অর্থসংকটজনিত চাপ কাজ করছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
শুক্রবার সেন্টকম জানায়, আগের সাত দিনে প্রায় ৪০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় মিত্রদের মাধ্যমে ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহনেও মার্কিন বাহিনী সহায়তা করেছে বলে দাবি করা হয়।
ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার দাবি এবং এর ফলে আইআরজিসি ও মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আর্থিক দিকটি সামনে এনেছে। তবে আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: শাফাক নিউজ।

