আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করায় দেশটিতে হামলার ব্যাপারে ‘সিরিয়াসলি’ (গুরুত্বের সঙ্গে) ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস রোববার (১১ জানুয়ারি) জানিয়েছে, ইরানে কীভাবে হামলা করা যায় এ ব্যাপারে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে তিনি হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তাকে যেসব বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে তেহরানের কিছু ‘বেসামরিক স্থাপনায়’ হামলার বিষয় রয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করেছে। শনিবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে, সম্ভবত যা আগে কখনো দেখেনি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!’
এছাড়া আরেক সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানো হতে পারে।
শনিবার সকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনটি সূত্র জানিয়েছে, দুই নেতা ইরানের বিক্ষোভ, সিরিয়া পরিস্থিতি এবং গাজার শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শনিবার সকালে ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে রুবিও লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে’।
ইরানের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হওয়ার পর শুক্রবার রাতেও রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া শনিবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপিত কিছু বিকল্পে সরাসরি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সেই সব উপাদানকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব রয়েছে, যারা বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালাচ্ছে।
তবে কর্মকর্তারা একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে ইরানি জনগণ সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে অথবা এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও কূটনীতিকদের ওপর পাল্টা হামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।




